ঢাকাশুক্রবার , ২৫ জুলাই ২০২৫
  1. অন্তবর্তী সরকার
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি ডেস্ক
  4. অস্ত্র
  5. আত্মহত্যা
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আহত
  8. ইতিহাস
  9. ইলিশ মাছ
  10. উচ্চ বাজার দর
  11. উপহার
  12. এনসিপি
  13. কাজী নজরুল ইসলাম
  14. কারামুক্তি
  15. কুমিল্লা

জাতীয় নেতা শহীদ তাজউদ্দিন আহমদের জন্মশতবার্ষিকী

আরাফাত খলিল
জুলাই ২৫, ২০২৫ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকী ২৩ জুলাই। ১৯২৫ সালের এই দিনে ব্রিটিশ রাজের অধীন ঢাকা জেলা, বর্তমানের গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে তার জন্ম। ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে কীর্তিগাথা শুনে বেড়ে ওঠা তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মেধাবী ছাত্র।

তৎকালীন সক্রিয় প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চার হাত ধরে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ তাজউদ্দীন আহমদের। তখন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন এবং স্নেহাস্পদ হয়ে উঠেন। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলে, তাজউদ্দিন আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয়দফার পক্ষে জনমত গঠনে তাজউদ্দীন আহমদ ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচন, নির্বাচন পরবর্তী অসহযোগ আন্দোলনে তাজউদ্দীন আহমদ সহ বঙ্গবন্ধুর সহযোগী নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। সে রাতেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী, তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের বৈঠক ডাকেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা করেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাকে অনুমোদন দেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ শপথ নেন। তিনি মেধা, দক্ষতা ও পরিশ্রম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও ত্যাগ প্রবাদতুল্য।

যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত তাজউদ্দীন আহমদকেই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর খুনীরা তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করে। সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল সেই খুনিচক্র ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করে জাতীয় চার নেতা- তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে।

পঁচাত্তরের খুনিচক্রের সহযোগী ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি আবারও জোট বেঁধে ষড়যন্ত্র করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে- যার নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরই ক্রীড়নক ড. মুহম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এটা এখন প্রমাণিত যে বাঙালির হৃদয় থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তির লড়াইয়ের বীর সংগ্রামীদের নাম-নিশানা মুছে দিতে চাইছে। এ কারণেই তাজউদ্দীন আহমদের ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও বিভিন্ন স্থাপনার উপরে আক্রোশ দেখা যাচ্ছে। যেমন আক্রোশ বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন ও টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির পিতার কবরের উপর।

কিন্তু এই দেশবিরোধী চক্র জানে না যে, বঙ্গবন্ধুর ডাকে লাখো-কোটি জনতা লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। তাজউদ্দীন আহমদের মতো মহান নেতারা সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর এই ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা তাঁর নৈতিক আদর্শ, দেশপ্রেম, বিশ্বস্ততা ও প্রজ্ঞার যে উদাহরণ তৈরী করে গেছেন, ইতিহাস থেকে তা কোনদিন মুছে ফেলা যাবে না। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা লাভ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করি। তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকীতে আমার আশাবাদ, এ দেশের মানুষ আবারও লড়াই করে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করবে। আজকের এই দিনে আমার আহবান থাকবে- সবাই প্রস্তুত হোন আসন্ন লড়াই সংগ্রামে অংশ নিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করুন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মশতবার্ষিকীতে দেশবাসীর পক্ষে থেকে আমি অশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এই মহান নেতার স্মৃতি অমর হোক। শুভ জন্মশতবার্ষিকী, বঙ্গতাজ!

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।