বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবমুক্তির অমর কণ্ঠস্বর – জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
বাংলার মাটি থেকে যে কণ্ঠস্বর একদিন ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে আকাশে আগুন জ্বেলেছিল, শোষিতের বুকে সাহসের বীজ বুনেছিল, অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করেছিল মানবমুক্তির শপথ, সেই কণ্ঠস্বরের নাম কাজী নজরুল ইসলাম। ২৪ মে, তাঁর জন্মজয়ন্তীর এই মহিমান্বিত মুহূর্তে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে সেই অমর মহাকবিকে যিনি কলমকে রূপান্তরিত করেছিলেন বিপ্লবের অস্ত্রে, আর সাহিত্যকে পরিণত করেছিলেন যুগের বিবেকে।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। দারিদ্র্য তাঁকে ভাঙতে পারেনি, ঔপনিবেশিক দমন তাঁকে থামাতে পারেনি, কারাগারের অন্ধকারও তাঁর কলমের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি। কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন এক যুগান্তকারী বিপ্লবী চেতনার মূর্ত প্রকাশ। তাঁর “বিদ্রোহী” কবিতা নিপীড়িত মানুষের আত্মমর্যাদার যে বজ্রনিনাদ তুলেছিল, তা আজও প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষের বুকে অনির্বাণ শিখার মতো জ্বলে। “সাম্যবাদী” কবিতায় তিনি যে সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, নহে কিছু মহীয়ান” সেই সত্য আজও সভ্যতার সবচেয়ে মৌলিক স্বীকৃতি।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর “ধূমকেতু” পত্রিকা হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার দাবিনামা। সেই দাহ্য লেখনীর কারণে তাঁকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল। কিন্তু কারাগার তাঁর বিদ্রোহকে আরও শাণিত করেছিল, স্তব্ধ করতে পারেনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে এ মাটিতে নিয়ে এসেছিলেন। এই স্বীকৃতি ছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টির প্রমাণ কারণ নজরুলের সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আসলে একই উৎস থেকে উৎসারিত।
আজকের বাংলাদেশে যখন সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তি সমাজের বুনটকে ছিঁড়ে দিতে চাইছে, যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র চলছে তখন নজরুলের আদর্শ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর কণ্ঠ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা কাপুরুষতা, আপস করা বিশ্বাসঘাতকতা। সত্যিকারের মানবিক দায়িত্ব হলো প্রতিরোধ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা ও সাম্যের দর্শন এ দেশের তরুণ প্রজন্মের মনে চিরকাল অনির্বাণ আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

