“আমরা তাকে কী প্রতিদান দিলাম?”
বিপিএলে রংপুর রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পুরস্কার হিসেবে টিমের মালিক যখন তাকে একটি দামি গাড়ি উপহার দিতে চাইলেন, তখন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা বিনয়ের সাথে বলেছিলেন:
“আমাকে গাড়ি দেবেন না, বরং একটি অ্যাম্বুলেন্স কিনে দিন—আমার নড়াইলের সাধারণ মানুষের জন্য।”
কারণ, তিনি জানতেন তার অঞ্চলের একজন মুমূর্ষু রোগী সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছাতে পারলে একটি জীবন নিভে যেতে পারে।
এই মানুষটাই নিজের খেলার পারিশ্রমিক থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় বেতনের পুরোটা দিয়ে দিয়েছেন নড়াইলের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও উন্নয়নে।
নড়াইলে চালু করেছেন “নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন”, যেখানে হাজারো মানুষের জীবন বদলে গেছে—কখনো একজন কৃষকের চোখের অপারেশন, কখনো এক গরিব ছাত্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ, কখনো একজন অসহায় মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসা।
তিনি কখনো বলেননি, “আমি তারকা, আমাকে নিরাপত্তা দিন।”
বরং তিনি ছিলেন মাঠে, মানুষের পাশে। করোনা মহামারিতে যখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিল, তখন মাশরাফি নিজে মানুষের দরজায় গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।
মাঠে যেমন সাহসী, জীবনের প্রতিটি পরতে তিনি ছিলেন একজন যোদ্ধা।
কিন্তু সেই মানুষটির প্রতিদান আমরা কীভাবে দিলাম?
৫ আগস্ট ২০২৪, এক বিভীষিকাময় দিন।
উগ্র মৌলবাদী জামাত-শিবিরের লোকজন সেই বাড়িটিকে পুড়িয়ে দিল, যেখানে মাশরাফির হাজারো স্মৃতি জড়ানো। সে বাড়িতে ছিলো কিছু এতিম ছেলেমেয়ে, যারা মাশরাফির আশ্রয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখত। পুড়ে গেছে তাদের বই, খাতা, পুতুল আর স্বপ্ন। পুড়ে গেছে এক মানবিক নায়কের আত্মার পরিধান। জ্বলন্ত অগ্নিশিখায় জ্বলেছে বাংলাদেশের এক টুকরো ভালোবাসা।
এই মানুষটার কাছে আমরা পেয়েছি সততা, নিষ্ঠা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আর আমরা তাকে দিয়েছি আগুন, প্রতিহিংসা আর নীরবতা।
মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি বাংলাদেশের বিবেক।
আজ সেই বিবেককে আমরা অপমান করেছি।

