ঢাকাবুধবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অন্তবর্তী সরকার
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি ডেস্ক
  4. অস্ত্র
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আহত
  7. ইতিহাস
  8. ইলিশ মাছ
  9. উচ্চ বাজার দর
  10. উপহার
  11. এনসিপি
  12. কারামুক্তি
  13. কুমিল্লা
  14. কুমিল্লা প্রতিনিধি
  15. খেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

বৈষম্যের স্বীকার কি শুধু আওয়ামীলীগ কেনো?

আরাফাত খলিল
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫ ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফখরুলের ক্ষেত্রে ‘শিষ্টাচার’ দাবি করা হয়, কিন্তু সাবের হোসেন চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, জুনায়েদ আহমেদ পলক তথা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ যেন বৈধ হয়ে যায়—এটাই কি রাজনৈতিক সংস্কৃতি? জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে তাদের নেতার বাড়িতে আক্রমণ বা পার্টি অফিসে আগুন দেওয়াও যেন গ্রহণযোগ্য? ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের পেটানোও যেন স্বাভাবিক?

এনসিপি’র কোনো নারী নেত্রী হলে তাঁকে ডিম ছুঁড়ে মারা যাবে না—এই মানসিকতা দেখা যায়। অথচ আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীদের গলায় জুতোর মালা পরানো হয়েছে, চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মারধর করা হয়েছে। তখন ইউনূসের অনুগত দালালগোষ্ঠী সেটি দেখেনি বা দেখতে চায়নি।

তবুও আওয়ামী লীগের কর্মীরা রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলেছে। মির্জা ফখরুলের গায়ে হাত তোলা হয়নি, এনসিপি’র নারী নেত্রীকে ডিম ছুঁড়ে মারা হয়নি।

ফখরুলের জায়গায় যদি ওবায়দুল কাদের থাকতেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হতো নিশ্চিতভাবেই। এনসিপি’র নারী নেত্রীর জায়গায় যদি আওয়ামী লীগের কোনো নারী নেত্রী থাকতেন, তাকেও নিশ্চয় ডিম নিক্ষেপের শিকার হতে হতো। গত এক বছরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি তথা ইউনূসের সন্ত্রাসী বাহিনী বারবার সেই সংস্কৃতিই দেখিয়েছে। তাঁরা বীর মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতোর মালা পরিয়ে অপমান করেছে, আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীদের দিকে জুতা ছুঁড়তে দ্বিধা করেনি। এমনকি ছাত্রলীগের এক কর্মীর বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে তাকে না পেয়ে তাঁর নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক সহিংসতাকে অসভ্যতার চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফখরুলকে হাতের কাছে পেয়েও কোনো কটুবাক্য উচ্চারণ করেনি। ভিড়ের মধ্যে একজনকে শুধু বলতে শোনা গেছে: “আপাকে কিছু করিস না, আখতারকে ডিম ছুঁড়ে মার।” অর্থাৎ প্রতিপক্ষ নারী নেত্রীকেও ন্যূনতম সম্মান দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ যতই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন, কোনো প্রতিহিংসা দেখায়নি—শুধু প্রতীকী প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

কোনো নির্দেশনা বা চেইন অব কমান্ড ছাড়াই আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রদর্শন করেছে, তা অন্য দলের নেতাদের মধ্যেও দেখা যায় না—আজ সেটি আবার প্রমাণ হলো।

মাথায় রাখা জরুরি, দেশে যদি বিচারের নামে অবিচার হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে, নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়িতে হামলা হয়, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়, ছাত্রলীগের ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়, কিংবা ছেলেকে না পেয়ে মাকে হত্যা করা হয়—তাহলে তার প্রতিক্রিয়াও অবশ্যই আসবে। এটাই বাস্তবতা।

ইউনূসের বাহিনীর অন্যায়-অত্যাচার ও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক দোসররা যারা এসব দেখতে পায় না, বরং আওয়ামী লীগের প্রতিবাদকে ‘অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দেয়—তাদেরও শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। আর সেটিই হবে প্রকৃতির বিচার।

ছবিসহ প্রমাণ দেওয়া হলো, যেখানে আওয়ামী লীগের নারী নেত্রী ও কর্মীদের ওপর ইউনূসের গুন্ডাবাহিনী (বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি) সদস্যরা বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়েছে। এই ছবি প্রমাণ করে, বাংলাদেশে নারীরা কীভাবে ইউনূসের গুন্ডাবাহিনীর হাতে লিঙ্গভিত্তিক রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।