ঢাকাবুধবার , ১ অক্টোবর ২০২৫
  1. অন্তবর্তী সরকার
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি ডেস্ক
  4. অস্ত্র
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আহত
  7. ইতিহাস
  8. ইলিশ মাছ
  9. উচ্চ বাজার দর
  10. উপহার
  11. এনসিপি
  12. কারামুক্তি
  13. কুমিল্লা
  14. কুমিল্লা প্রতিনিধি
  15. খেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন: প্রেরণার বাতিঘর থেকে অমর স্মৃতির ঠিকানায়

আরাফাত খলিল
অক্টোবর ১, ২০২৫ ৫:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু নেতার আবির্ভাব ঘটেছে, যাঁরা নিজেদের কর্মদক্ষতা, আদর্শনিষ্ঠা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা,সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন না; বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের জন্ম নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বাগানবাড়ি গ্রামে। পিতা এম. এ. মজিদ ছিলেন একজন আইনজীবী ও সমাজনেতা, আর মাতা নূর বেগম ছিলেন গৃহিণী। পরিবার থেকেই তিনি শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বগুণ অর্জন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকালীন সময় থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতি, খেলাধুলা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন।১৯৯০-এর দশকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র কিংবা ভয়—কিছুই হুমায়ুন ভাইকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁর নেতৃত্বে আমরা শিখেছি সংগ্রামের মানে, শিখেছি দল ও দেশের প্রতি অবিচল আনুগত্যের শিক্ষা। আজ স্মৃতির পাতা উল্টে দেখি, তিনি ছিলেন শুধু একজন নেতা নন, তিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণার প্রদীপ, যিনি অন্ধকারের মধ্যেও আলোর দিশা দেখিয়েছেন।

তার নেতৃত্বে অনেক সম্মেলন হয়।আর তাতেই আমরা শিখেছি কীভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হয়। তিনি ছিলেন সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক, কর্মীদের আপনজন এবং একজন সত্যিকারের মানবিক মানুষ।

২০০৮ সালে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী–বেলাব) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন। পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাণিজ্য, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্পখাত ইত্যাদি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।

২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে: দেশীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন,রপ্তানি বৃদ্ধি,
জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।তাঁর শিল্প নীতি ছিল উদ্যোক্তাবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য পথপ্রদর্শক।

২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দেশকে স্বাধীন করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রীর কতটা অযত্ন অবহেলায় একজন রাজবন্ধীর মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়! মৃত্যুর সময় কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মজিদ হুমায়ুন ভাইকে ঢাকা মেডিকেলের নোংরা বিছানায় একটা বেড কভার পর্যন্ত দেয়া হয় নাই! তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারাল এক অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যুবলীগ হারাল একজন অভিভাবক, আর শেখ হাসিনা হারালেন এক বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত জনগণ ও রাজনৈতিক মহল আজও তাঁকে স্মরণ করছে শ্রদ্ধাভরে।

তাঁর মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান হলো, তবে তাঁর আদর্শ, কর্ম ও স্মৃতি চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।