মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে পরপর দুই জন গ্রাহক পোস্ট অফিস থেকে টাকা তুলে জাল নোট পেয়েছেন। ভুক্তভোগী দুজনই পোস্ট অফিস থেকে টাকা তুলে দুটি ভিন্ন ব্যাংকে জমা দিতে গেলে ব্যাংক কতৃপক্ষ জাল টাকা গুলো শনাক্ত করে৷ জানা যায়, প্রতারিত দুজন ব্যক্তিকেই পোস্ট অফিস ১০০০ টাকার জাল নোট ধরিয়ে দেয়।
প্রতারিতদের একজন শেরপুর সদর উপজেলার গণই মমিনাকান্দা গ্রামের একজন নিরক্ষর বৃদ্ধা নারী শাহিনা বেগম। ৬০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা গত ৭ অক্টোবর পোস্ট অফিসের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে ১২ অক্টোবর শেরপুর শহরের উত্তরা ব্যাংকে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে গেলে, সেই টাকার মধ্যে ৫৩ টি এক হাজার টাকার নোট অর্থাৎ ৫৩০০০ টাকাই জাল টাকা হিসেবে সনাক্ত হয়।
বৃদ্ধা শাহিনার মেয়ে সুমি আক্তার বলেন, অনেক কষ্টে আম্মা এই টাকা জমিয়েছেন। তিনি সোজাসাপ্টা মানুষ। পোস্টাল অফিসারকে লেখাপড়া না জানার কথা বলেছিলেন। তিনি সেই সুযোগ নিয়ে আম্মাকে জাল টাকা ধরিয়ে দিয়েছেন। পোস্ট অফিসের সিসি ক্যামেরা দেখে তদন্ত করলে সব পরিষ্কার হবে।
অভিযুক্ত ঐ পোস্টাল অফিসার মানিক মিয়া বলেন, ওই নারী ৭ অক্টোবর টাকা উত্তোলন করেন। পাঁচ দিন পর এসে বলছেন, টাকা জাল। এটা ঠিক নয়। আমরা গ্রাহকদের টাকা দেখে নিতে বলি, তিনিও টাকা বুঝে নিয়েছেন। এর দায় আমরা নিতে পারি না।
কিন্তু আরেক ভুক্তভোগী স্থানীয় রশিদা ফ্যাক্টরির কর্মচারী নুরু মিয়া দুইদিন পর অর্থাৎ ৯ অক্টোবর একই পোস্ট অফিস থেকে টাকা তুলে সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে গেলে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মধ্যে ২৫টি জাল নোট ধরা পড়ে। জানা যায়, পরে পোস্ট অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সেগুলো বদলে দেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভুক্তভোগী নুরুমিয়ার টাকা বদলে দিলেও ঘটনার ৭ দিন পরেও বৃদ্ধা শাহিনা বেগমের প্রাপ্ত জাল টাকাগুলোর কোন সুরহা করেনি পোস্ট অফিস কতৃপক্ষ।
শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, এমনকি একজন পরিচিত ব্যক্তি নিউমার্কেটের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে এক হাজার টাকার একটি নোট জাল পান। এসব ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পোস্ট অফিস মানুষের সঞ্চয় জমা রাখার ক্ষেত্রে একটি পরম ভরসার জায়গা, মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ, এমনকি শেষ সম্বল হিসেবে পেনশনের টাকাও এখানে জমা করে। কিন্তু এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হরহামেশাই এরকম জাল নোট পাওয়ার নজির খুবই উদ্বেগজনক এবং ঘটনাগুলো জনমানুষের আস্থা বিনষ্ট করছে। পোস্ট অফিস কিংবা ব্যাংকের ভোল্টে জাল নোট বাংলাদেশের মানুষের কাছে নজিরবিহীন। দেশের চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অস্থিরতার পর এখন যদি জাল টাকার মাধ্যমেও মানুষ এভাবে প্রতারিত হতে থাকে, তবে বলা বাহুল্য- ভবিষ্যতে দেশে ভয়াভহ সংকট সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

