ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমানের দাবি, ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সহযোগিতা করেছে দিন-রাত; রামপুরা বিটিভি ভবনে আগুন, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা সমন্বয়ে জামায়াত নেতাদের সম্পৃক্ততা।
জুলাই আন্দোলনের অগ্নি সন্ত্রাস ও সহিংসতার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিএনপি-জামায়াত জোটের সম্পৃক্ততা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে শফিকুর রহমান চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির আমাকে জনবল দিয়ে রাত-দিন চব্বিশ ঘণ্টা সহযোগিতা করেছে। বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাকে অস্ত্র ও টাকা জোগান দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের সময় রামপুরা টেলিভিশন ভবনে অগ্নিসংযোগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি কিছু মাদ্রাসার সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা-সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
শফিকুর রহমানের দাবি অনুযায়ী, ২৬ জুলাই শুক্রবার তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মামুনুল হকের কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আন্দোলনের কৌশল ও তহবিল বন্টন নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি আরও বলেন, “বস্তির লোকদের টাকা দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনের ভিড় বাড়াতে। আসিফ মাহমুদ ও সজীব ভূঁইয়ারা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। আমাকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নেওয়া হয় এবং ডিবি হেফাজতে থাকা নাহিদ ইসলামদের মুক্ত করার চেষ্টা হয়।”
শফিকুর রহমানের পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, “জুলাইতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যারা রাস্তায় চলাচল করতেন, তাঁদের সব তথ্য আমি প্রকাশ করব।”
পূর্বেও এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, “রামপুরা বিটিভির তিন নম্বর গেইট ভেঙে প্রবেশ করি। ভেতরে থাকা মাইক্রোবাসে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেই। আমার ইচ্ছে ছিল বিটিভির ভবনের কন্ট্রোল রুম দখল করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিজয় ঘোষণা দেওয়ার। যাতে পুরো বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসতে সাহস পায়।”
এই প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে জুলাই যোদ্ধার সখ্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকারোক্তি জুলাই আন্দোলনের সহিংস অংশে বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত এসব বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হলে, জুলাই সহিংসতার পেছনের নেপথ্য চক্র আরও স্পষ্ট হবে বলে তারা মনে করছেন।

