ঢাকাশুক্রবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অন্তবর্তী সরকার
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি ডেস্ক
  4. অস্ত্র
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আহত
  7. ইতিহাস
  8. ইলিশ মাছ
  9. উচ্চ বাজার দর
  10. উপহার
  11. এনসিপি
  12. কারামুক্তি
  13. কুমিল্লা
  14. কুমিল্লা প্রতিনিধি
  15. খেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পর ঝাউবাগান থেকে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজার শহরের সমুদ্র তীরবর্তী ঝাউবাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. আমিন উল্লাহ (২৫) নামে এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করলে পরিবার-স্বজনরা একে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।

আজ ৪ঠা সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মোটেল সৈকতের গলফ মাঠ সংলগ্ন ঝাউবাগানে আমিনের মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

মো. আমিন উল্লাহ ‘আমার প্রাণের বাংলাদেশ’ নামে একটি দৈনিকের উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। তার পৈত্রিক বাড়ি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর ২নং ওয়ার্ডে। তার পিতার নাম জুনু মিয়া।

জানা গেছে, কক্সবাজারে গত কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নিয়েছেন এমন অভিযোগে আমিন উল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার ছোটভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত কিছুদিন ধরে একাধিক ভিডিও করেন। সেখানে এসব ঘটনার পেছনে মামলা বাণিজ্যসহ পুলিশি হয়রানি, নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদ করেন।

মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আমিন উল্লাহ তার প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক ভিডিওতে জানান তিনি এবং তার পরিবার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নন। তবুও পুলিশ তাকে না পেয়ে তার ছোটভাইসহ আরও ১৭/১৮ জনকে আটক করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে। আটককৃতদের ৭-৮ জনকে কারাগারে চালান দেওয়া হয় এবং বাকিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়ে বলে ভিডিওতে জানান সাংবাদিক আমিন উল্লাহ।

তিনি ভিডিওতে জানান, তিনি এবং তার ছোটভাই, কেউই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন। তবুও ছোটভাইকে কারাগারে যেতে হয়েছে। পুলিশি হয়রানির কারণে তিনি নিজেও বাড়িতে যেতে পারছেন না, যখন-তখন পুলিশ গিয়ে হানা দিচ্ছে বাড়িতে।

আর এসব ঘটনার পেছনে তিনি উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেনকে অভিযুক্ত করেন তার ভিডিও। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, কেন তিনি এলাকার নিরীহ জনগণকে হয়রানি করছেন। সাধারণ মানুষ কেন পুলিশের কাছে জিম্মি হবে? স্বাধীন দেশে সংবাদকর্মীর কেন স্বাধীনতা থাকবে না।

তিনি ভিডিওতে এমনকি জানিয়ে রাখেন, যদি তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা হবে উখিয়া থানা-পুলিশের নিপীড়নের কারণেই।

আজ আমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর এ বিষয়গুলো সামনে এনেছেন তার বন্ধু-স্বজনরা। এই মৃত্যুকে তারা স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না। তাদের মতে, তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেই তার হত্যাকাণ্ডটা এভাবে সাজানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, উখিয়ায় গত ১১ মাসে ৬৫টি অপমৃত্যু, কয়েকশ চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছিলেন স্থানীয়রা। একইসাথে মামলা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ছিল চলমান। ওসি আরিফের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি-অনিয়মসহ গুরুতর অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। এসব সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ২৮শে আগস্ট তাকে বদলি করা হয় রামু থানায়।

গণমাধ্যমের কাছে তিনি একে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন। তবে মরদেহ নামানোর সময় উপস্থিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল।

আমিন উল্লাহর পকেটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের একটি বাসের টিকেট পাওয়া গেছে। টিকিটে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রার সময় ৩রা সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ২০ মিনিট উল্লেখ ছিল।

সাংবাদিক আমিন উল্লাহর মৃত্যুতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর গভীর শোক প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি জানিয়েছেন।

সেইসাথে আমিন উল্লাহর কর্মস্থল দৈনিক সীমান্ত বাংলা পরিবারও তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইউনূস সরকারের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

কারা সেই অজ্ঞাত ৩ জন?

চট্টলা বাংলা নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক শ. ম. গফুর তার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক আমিন উল্লাহর মৃত্যুর ঘটনা বিবরণে দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। আমিনের ঝুলন্ত মৃতদেহের ছবি শেয়ার করে তিনি ফেসবুকে জানালেন আমিন যখন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ফিরছিলেন, তার সাথে ছিলেন অজ্ঞাত তিনজন যুবক।

ফেসবুক পোস্টে গফুর জানান, ফটো সাংবাদিক হিসেবে আমাদের অনেকের জন্য অনেকটা হেল্পফুল সহকর্মী ছিলেন আমিন। পেশাগত জীবনে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কর্মচারী ছিলেন তিনি,পাশাপাশি লেখালেখি করতেন প্রতিবাদী ভাষায়। বুধবরা রাত প্রায় ৯টার দিকে চট্টগ্রামের নতুন ব্রীজ এলাকার বাস কাউন্টারে আমিনের সাথে তার দেখা এবং সবশেষ কথা হয় তার। আধা লিটার ঠান্ডা পানি তারা ৪ জন পান করেন।

শ. ম. গফুর লেখেন: আমিন মারসা পরিবহনের টিকেট নিয়েছিল। তার সাথে অজ্ঞাত ৩ জন যুবক ছিল। আমিনকে জিজ্ঞেস করি- ভাতিজা কী জন্য এসেছো? উত্তরে বলেছিল, একটা কাজে এসেছি, আমার ফুপি আছে, সেখানে এসেছিলাম। সে আমার আগের গাড়িতে হয়তো সাড়ে ৯টার যাত্রী হিসেবে রওয়ানা দেয়। আমি আর বন্ধু রশিদ আমরা দুইজন স্বাধীন ট্রাভেলস-এর এসি গাড়িতে উঠি রাত ১০টায়। আমি লিংক রোড থেকে সিএনজিতে করে কুতুপালং বাসায় এসে পৌঁছি রাত ৩টায়।

তিনি আরও লিখেন: আজ সকাল ১০টায় ফেসবুক খোলামাত্রই দেখি আমিনের ঝুলন্ত মরদেহ। কক্সবাজার সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করলো পুলিশ। গলায় রশি দিয়ে গাছের সাথে ঝুলানো, মরদেহের পা মাটিতে স্পর্শ করা। বুঝে নিতে কষ্ট হবে না, সে পরিকল্পিত হত্যার শিকার। এমন চিত্র দেখে নিজেকে প্রবোধ দিতে পারছি না, কেন এমন মৃত্যুর শিকার হলো আমিন? তার মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখছে মনে হচ্ছে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।